সন্ত্রাস নয় মানবতার ধর্ম ইসলাম – সেরা নিউজ ২৪ ডটকম | SeraNews24.Com | সর্বদা সত্যের সন্ধানে
সংবাদ শিরোনাম :
মাওনা প্রিমিয়ার লীগে ভিক্টরিয়া একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভাইকিংস একাদশ ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আধুনিক মঞ্চ নাটক প্রদর্শনী তিতুমীরে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ চকবাজার অগ্নিকান্ডে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালিত কবি সাজেদুল হকের ” মাছরাঙার শহরে, উড়ে যাওয়া পাখির দূরে যাওয়া শূন্যতা “ শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আলহাজ্ব আব্দুল জলিলকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে চায় শ্রীপুরবাসী কুষ্টিয়া তে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ কুমারখালী তে বই উৎসব ২০১৯ অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া -৪ আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জ বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী। নৌকায় ভোট চাইলেন তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ নেতা হাসানুর রহমান শাওন
সন্ত্রাস নয় মানবতার ধর্ম ইসলাম

সন্ত্রাস নয় মানবতার ধর্ম ইসলাম

সন্ত্রাস শব্দটি শুনলেই অন্তর আঁতকে ওঠে। এ শব্দটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সহ+ত্রাস=সন্ত্রাস। ত্রাস অর্থ—ভয় বা শঙ্কা। ‘সন্ত্রাস’ অর্থ হচ্ছে—অত্যধিক ভয় বা ভীতিকর অবস্থা। জনজীবনে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করার নামই সন্ত্রাস। যারা সমাজে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে তাদের বলা হয় সন্ত্রাসী।
মানুষ নিষ্পাপ হয়েই পৃথিবীতে আসে, তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থাই তাকে সন্ত্রাসী বানায়। মূর্খতা, ধর্মান্ধতা এবং দরিদ্রতার কারণে মানুষ সন্ত্রাসী হয়। প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারকে কেন্দ্র করেও মানুষ সন্ত্রাসী হয়। সমাজে দোষী ব্যক্তির শাস্তি না হলে সমাজে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পেতে থাকে। আবার অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের কারণেও সন্ত্রাসের জন্ম হয়। সন্ত্রাস যে কারণেই সৃষ্টি হোক না কেন, ইসলাম তা কখনো সমর্থন করে না। এ বিষয়ে ইসলামের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে—‘যারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গে সংগ্রাম করে এবং দেশে ফেতনা-ফাসাদ বা হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হলো তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা। আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি’ (আল-কুরআন, সূরা মায়েদাহ, আয়াত ৩৩)।

 

সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বর্জনের নির্দেশ করে আল্লাহপাক আল-কুরআনের অন্যত্র বলেন—‘পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও স্থিতিশীল করার পর তাতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না।’ (সূরা আরাফ, আয়াত ৫৬) এখানে ফাসাদ বলতে আল্লাহ চুরি, ডাকাতি, হত্যা এবং যাবতীয় সন্ত্রাসী কার্যকলাপকেই বুঝিয়েছেন।

 

আল্লাহ সূরা কাসাসের ৭৭ তম আয়াতে বলেন—‘তোমরা পৃথিবীতে গোলযোগ সৃষ্টি করবে না, নিশ্চয়ই আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীকে পছন্দ করেন না।’ একইভাবে সূরা বাকারার ২১ তম আয়াতে আল্লাহ বলেন—‘গোলযোগ সৃষ্টি করা তো হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ।’

 

কোন মুসলমান জেনেশুনে কাউকে হত্যা করলে তার শাস্তি আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন স্থায়ী জাহান্নাম। আল্লাহ বলেন—‘যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।’ (সূরা নিসা, আয়াত ৯৫) আল-কুরআনে অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে—‘আল্লাহ যাকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে তোমরা হত্যা করো না। কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হলে তার উত্তরাধিকারীকে তো আমি প্রতিশোধ গ্রহণের অধিকার দিয়েছি। কিন্তু হত্যার ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে, সে তো সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছে’ (সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৩৩)। তিরমিযী শরীফের এক হাদীসে এসেছে, নবী করীম (স.) বলেন, ‘দুনিয়া ধ্বংস করে দেয়ার চেয়েও আল্লাহর কাছে ঘৃণিত কাজ হচ্ছে কোন মুসলমানকে হত্যা করা।’

 

আল্লাহ সূরা মুমতাহিনার ৮ নম্বর আয়াতে বলেছেন—‘আল্লাহ তাদের (ওইসব অমুসলিমদের) সাথে তোমাদের সদ্ব্যবহার ও ন্যায়বিচার করতে নিষেধ করেননি, যারা তোমাদের সঙ্গে ইসলাম নিয়ে লড়াই বা ঝগড়া করেনি।’ আল্লাহ’র এ বাণী থেকে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, সংখ্যালঘু অমুসলিম যারা ইসলামের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন নয়; বরং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আগ্রহী, তাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী তত্পরতা চালানোর অনুমতি ইসলাম কখনো দেয়নি।

 

ইসলাম শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে ইসলাম। ইসলাম পারস্পরিক প্রেম, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও কল্যাণ প্রয়াসে সহযোগিতার উপায় সৃষ্টি করতে চায়। যাতে করে আল্লাহ’র সকল বান্দা একাগ্রচিত্তে নিজের এবং অপরের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে পারে।

 

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ যুগে আগমন করেছিলেন বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, শান্তি ও মুক্তির অগ্রনায়ক মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ (স.)। তাঁর আবির্ভাবের সময়ে আরব তথা সমগ্র বিশ্বের পরিবেশ ছিল খুবই অশান্ত এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ভরপুর। সন্ত্রাসের ব্যাপকতার কারণেই সে যুগের নাম রাখা হয়েছিল ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত’ বা বর্বরতার যুগ। অন্যের সম্পদ লুণ্ঠন, ইয়াতিমের মাল আত্মসাত্, নারীর সম্ভ্রমহানি, শত্রুর খুলিতে শরাব পান, মানুষের নাক-কান কেটে গলার মালা বানানো ছিল সে সময়ের স্বাভাবিক ব্যাপার। সেই পতনোন্মুখ বিশৃঙ্খল একটি সমাজকে নবীজী তাঁর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা দিয়ে সভ্যতার কোলে ফিরিয়ে এনেছিলেন।

 

নবীজী কিশোর বয়সেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমেছিলেন। স্বগোত্রীয় কয়েকজন শান্তিপ্রিয় যুবককে নিয়ে তিনি গঠন করেছিলেন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘হিলফুল ফুযুল’। যে সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিশ্ব ইতিহাসে এটিই ছিল সন্ত্রাস দমনে প্রথম সংগঠন।

 

রসূলুল্ল­াহ (স.) নবুওয়াত লাভের পর তের বছর মক্কায় অবস্থান করেন। এ সময় তিনি চরম সন্ত্রাসের সম্মুখীন হন। এ কষ্ট তাঁকে দারুণভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। মদীনায় গিয়ে তিনি সর্ব প্রথম ‘মদীনা সনদ’ নামে লিখিত একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করেন। যে শাসনতন্ত্রের মূল লক্ষ্য ছিল—‘মদীনাকে পবিত্র শহর ঘোষণা করে হত্যা সন্ত্রাসসহ সকল প্রকার অপরাধ থেকে মুক্ত রাখা।’ অবশেষে সে প্রচেষ্টায় তিনি সফলও হয়েছিলেন। ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তাঁর সময়ে নির্জন রাতে একাকী কোন নারী মদীনার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে নিরাপদে পৌঁছতে পারতেন।

 

সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠারও প্রয়োজন পড়ে। নবীজী তা বাস্তবেই দেখিয়ে গেছেন। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তিনি অপরাধীকে শাস্তি দিয়েছেন। তাঁর আমলে হত্যা, ব্যভিচার, চুরি, ডাকাতি ও সন্ত্রাসের সকল অপরাধের শাস্তি কার্যকর হয়েছে। আইনের দৃষ্টিতে সবাই ছিল তাঁর কাছে সমান। বিচারে সঠিক যে পন্থাটি তাঁর কাছে সহজ বলে মনে হতো, তিনি তা গ্রহণ করতেন। অযথা কঠোরতা পরিহার করে সহজ ও মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করাই ছিল তাঁর আদর্শ। তবে যেখানে তিনি নিরুপায় হয়ে যেতেন, অনিচ্ছা সত্ত্বেও চরম পন্থাটি তাঁকে গ্রহণ করতে হতো।

 

হযরত আনাস ইব্ন মালেক (রাযি.) বলেন, একবার একটি মেয়ে অলংকার পরে কোনো প্রয়োজনে মদীনার বাইরে কোথাও যাচ্ছিল। মেয়েটি যখন নির্জন উপত্যকা দিয়ে একাকী পথ চলছিল, তখন এক ইয়াহুদী দস্যু তার অলংকারগুলো ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করে । মুমূর্ষু অবস্থায় মেয়েটিকে তার স্বজনরা উদ্ধার করে নবীজীর কাছে নিয়ে আসেন। নবীজী মেয়েটিকে কয়েকজন সন্দেহভাজন দস্যুর নাম উল্লে­খ করে জানতে চান তারা তাকে আক্রমণ করেছে কি-না? সে বলে, না। এরপর যে তাকে আক্রমণ করেছিল নবীজী তার নাম বলতেই মেয়েটি ইশারা করে বলে হ্যাঁ। এর অল্পক্ষণ পরই মেয়েটি মারা যায়। ওই ইয়াহুদীকে নবীজী গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়ে দরবারে হাজির করেন। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর সে তার অপরাধ স্বীকার করে। এরপর রসূলুল্ল­াহ (স.) ওই ইয়াহুদীকে দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে মেয়েটির মতো হত্যার নির্দেশ করেন (সহীহ্ বুখারী)।

 

নবীজী শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে সন্ত্রাস নির্মূল করেছিলেন এমনটি নয়; তিনি নৈতিকতা শিক্ষা দিয়েও মানুষকে সভ্যতার কোলে ফিরিয়ে আনেন। যেই আরব জাতি উটের পানি পান করানোর মত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুগের পর যুগ যুদ্ধে লিপ্ত থাকত, তাঁরাই রাসূলের শিক্ষা পেয়ে চরম তৃষ্ণার মুহূর্তে নিজের পানি অপর ভাইকে দান করেছেন। এটাই ছিল নবীজীর মানবতার শিক্ষা। আজকের এ সংকটময় মুহূর্তে সন্ত্রাস নির্মূলের একমাত্র পথ হচ্ছে তাঁর আদর্শের পূর্ণ অনুসরণ। আর তবেই শান্তিতে ভরে উঠবে পৃথিবী, সন্ত্রাসমুক্ত হবে আমাদের সমাজ ও দেশ।

 

লেখক : বাংলাদেশ বেতারের  আরবী ভাষা শিক্ষা অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও  ধারাবাহিক তাফসীরুল কুরআন অনুষ্ঠানের তাফসীর পেশকারক
Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত ‍লিখুন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

সংবাদ খুজুন

ফেসবুক গ্রুপ অনুসরন করুনঃ

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ – World Cup Football 2018 – SeraNews24.com
Facebook Group · 35,396 members
 

Join Group

 

প্রতিমুহূর্তের সংবাদ পেতে ভিজিট করুন “সেরা নিউজ ২৪ ডটকম”
www.SeraNews24.com

 About Us     Contact     Privacy & Policy     DMCA     Sitemap

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত সেরা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম -২০১৮