লকডাউন থেকে মুক্তি মিলবে কখন, কীভাবে? | | সেরা নিউজ ২৪ ডটকম | SeraNews24.Com | সর্বদা সত্যের সন্ধানে
বিজ্ঞপ্তিঃ

দেশের জনপ্রিয় জাতীয় অনলাইন দৈনিক “সেরা নিউজ ২৪ ডটকম” এর সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মঠ, সৎ, সাহসী পুরুষ ও মহিলা সংবাদদাতা/প্রতিনিধি/বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ 01727747903 ইমেইলঃ [email protected]

লক্ষ্মীপুরে ইঞ্জিনিয়ারের উপর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার হামলা মুন্সীগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাতি জিয়াউর রহমানের ৩৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ টঙ্গীবাড়ির জমি সংক্রান্ত জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৪জন আহত করোনা মোকাবিলায় নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন লক্ষ্মীপুরে মৃত ব্যক্তিসহ আরও ৮ জনের করোনা শনাক্ত রায়পুর ফিস হ্যাচারী ১৮ টাকা কেজি খৈল-ভূষির টেন্ডার! লক্ষ্মীপুরে শিশুর শরীরে ইনজেকশন পুশ করা সেই খুকি বেগম গ্রেফতার রামগঞ্জে অলিম্পিক কোম্পানীর মৃত মাঠকর্মী ও মাছ বিক্রেতাসহ করোনা শনাক্ত ৫ জনের
লকডাউন থেকে মুক্তি মিলবে কখন, কীভাবে?

লকডাউন থেকে মুক্তি মিলবে কখন, কীভাবে?

করোনার টিকা কবে আসছে? কোন ওষুধে করোনার নিরাময় হয়? করোনাকালে নিশ্চয় মানুষের কাছে সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত খবর এগুলো। উন্নত বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এই কাজে বসে নেই। টিকা আবিষ্কারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। তবে আরেকটি বিষয়ও মানুষকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখছে, তা হচ্ছে লকডাউন। কত দিন পর লকডাউন থেকে মুক্তি মিলবে, এই প্রশ্ন মুখে মুখে, কিন্তু উত্তর নেই কারও কাছেই। বিশেষ করে দেশে দেশে সরকারগুলো এই লকডাউন নিয়ে বেশ গলদঘর্মই হচ্ছে।

বাংলাদেশও পরিস্থিতির বাইরে নয়। গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে লকডাউন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। আবার করোনার রোগী শনাক্ত হওয়া এবং মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। অর্থাৎ রোগ ও অর্থনীতি দুটিই খারাপের পথে। এই অবস্থায় আর কত দিন পর লকডাউন তোলা যাবে, সে বিষয়টির কূলকিনারা করতে পারছে না সরকার। এর মধ্যে পাঁচ দফা লকডাউনের সময় বেড়েছে। সর্বশেষ ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে। এরপর কী হবে, এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

করোনা প্রাদুর্ভাব ও দেশে দেশে লকডাউনের বিষয়গুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ হয়েছে। এগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পৃথিবীর লোকসংখ্যা ৭৮০ কোটি। এর মধ্যে বর্তমানে ৭০টির মতো দেশ বা অঞ্চলের প্রায় ৩০০ কোটি মানুষকে লকডাউন বা ঘরে থাকার নির্দেশনা বলবৎ আছে। কোনো কোনো দেশে লকডাউন শিথিল হয়েছে, কেউ কেউ তা তোলার আলোচনা শুরু করেছে। তবে লকডাউন তোলা বা আলোচনা শুরুর জন্য অন্তত দেড় থেকে আড়াই মাস পর পর্যন্ত মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ লকডাউন চলছে ২৬ দিন। অন্যদের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশকে আরও অনেক পথই পাড়ি দেওয়া লাগতে পারে। সরকারেরর অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, অর্থনীতি বাঁচাতে সামনের দিনগুলোয় কিছু কঠিন ও সাহসী সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

দেখা গেছে, বেশির ভাগ দেশই লকডাউন ঘোষণা করেছে রোগটি শনাক্ত হওয়ার এক মাস বা এরও পরে। কিন্তু বাংলাদেশে লকডাউন হয়েছে রোগ শনাক্তের ১৮ দিনের মাথায়। বাংলাদেশে প্রথম তিনজন রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। ২৬ মার্চ যখন লকডাউন শুরু হয়, তখন মাত্র ৩৯ জনের রোগ শনাক্ত হয়েছিল। তখন পর্যন্ত মারা যান ৫ জন। চীন, ইউরোপের দেশগুলো ও যুক্তরাস্ট্রে লকডাউন ঘোষণার সময় শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ছিল। বেশির ভাগ দেশ প্রকোপ কমের দিকে। এ জন্য লকডাউন শিথিল বা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কী করবে, তা জানতে চেয়েছিলাম সরকারের দুজন গুরুত্ব মন্ত্রীর কাছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর বলে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা যা বললেন, এর সারমর্ম হচ্ছে, লকডাউন তুলতে হলে তো কিছু একটা লাগবে। আজ টিকা বের হয়ে গেলে কালকেই মানুষ লকডাউন তোলার জন্য রাস্তায় নেমে যাবে। শনাক্ত ও প্রাণহানি কমলেও তুলে দেওয়া যায়। কিন্তু শিগগিরই এমন আশা কম। আবার লকডাউন চালু রেখে কত দিন অর্থনীতি বাঁচিয়ে রাখা যাবে, সেটাও বড় প্রশ্ন।

ওই দুই মন্ত্রী বলেন, প্রথমে কৃষি, এরপর তৈরি পোষাক খাত চালু করা হতে পারে। সরকার হয়তো লকডাউন নিয়ে কিছু কঠিন সিদ্ধান্তই নেবে আগামী দিনগুলোতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক দেখিয়েছেন, লকডাউনের কারণে বাংলাদেশে দিনে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। গত ১৮ এপ্রিল তাঁরা এই গবেষণার প্রাথমিক ফল প্রকাশ করে। এই গবেষণা শুধু কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ক্ষতি ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। গবেষকেরা বলেছেন, লকডাউন অব্যাহত থাকলে দৈনন্দিন ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। পুরো মে মাস পর্যন্ত লকডাউন থাকলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৯ শতাংশ।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদের কাছে প্রশ্ন ছিল লকডাউন কবে তোলা যায়। তিনি বললেন, বাংলাদেশের মানুষ বা সরকারের কারও দীর্ঘদিন লকডাউন দিয়ে রাখার সামর্থ্য নেই। আবার হুট করে লকডাউন তোলাও যাবে না। তিনি করণীয় সম্পর্কে বলেন, আগামী ১৫ মে পর্যন্ত প্রচুর করোনা শনাক্তের পরীক্ষা চালাতে হবে। তাহলে সারা দেশে হটস্পটগুলো (সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছোট ছোট এলাকা) জানা যাবে। তখন লকডাউন হবে শুধু হটস্পটভিত্তিক। এখন সারা দেশে যে লকডাউন চলছে, এতে খুব বেশি লাভ হবে না। হটস্পটভিত্তিক লকডাউনই কার্যকর হবে। এতে করোনার বিস্তার ঠেকানো যাবে। আবার অর্থনীতিও ঠিক রাখা যাবে। লকডাউনের ক্ষতি পোষাতে বোরো ধান কাটার কাজে শ্রমিক সংগ্রহ এবং শ্রমিকদের মজুরি সরকারিভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন তিনি।

করোনাভাইরাসের কারণে অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানিমুখী বাণিজ্য দুটিই মার খাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বলেছে, করোনাভাইরাসের কারণে আগামী তিন মাসে বিশ্বে ১৯ কোটি মানুষ চাকরি হারাবে। এর মধ্যে ১২ কোটি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চলের। বাংলাদেশেও দেড় কোটি মানুষ বেকার হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ।

চীন-ভারতের অভিজ্ঞতা
করোনাভাইরাসের উৎস চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর। গত বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ তা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে দ্রুতই তা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এই রোগের প্রাদুর্ভাব আটকাতে ২৩ জানুয়ারি হুবেই প্রদেশ লকডাউন করে চীন সরকার। এরপর অন্যান্য প্রদেশও লকডাউনের আওতায় আসে। কঠোর এই লকডাউনে চীন অবশ্য অনেকটাই সফল। এখন উহানে আর নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হচ্ছে না। ৮ এপ্রিল উহানের লকডাউন তুলে দেওয়া হয়। এর আগে চীনের অন্য শহরগুলোয় বিধিনিষেধ তোলা হয়। অর্থাৎ যেখানে করোনাভাইরাসের জন্ম, সেই উহানে লকডাউন ছিল আড়াই মাসের বেশি। সংক্রমণ একেবারে শূন্যে এনে সেখানে জনজীবন স্বাভাবিক করা হয়। চীনের আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে শুরু থেকেই পশ্চিমা সরকার ও গণম্যমগুলো সন্দিহান। এরপরও চীনের সরকারি হিসাবে দেশটিতে করোনাভাইরাস শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৩ হাজারের কাছাকাছি। আর মৃতের সংখ্যা সাড়ে চার হাজারের কিছু বেশি। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় একই সময়ে ২৪ মার্চ লকডাউন ঘোষণা করে প্রতিবেশ ভারত। অবশ্য এর আগে কারফিউ পালন করা হয়। দেশটির বিভিন্ন রাজ্য নানা ধরনের বিধিনিষেধের মধ্যে গেছে তারও আগে থেকে।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসারে, ৩ মে পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে। অর্থাৎ ১৩৫ কোটি মানুষের দেশটি সোয়া মাস অচল। তবে এর মধ্যে কৃষি খাতে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে দেশটি।

ভারত ২৪ মার্চ যেদিন লকডাউনে যায়, সেদিন দেশটিতে সরকারিভাবে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয় ৫১৯ জন। সেদিন পর্যন্ত প্রাণহানি ১০ জন। সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত ভারতে প্রায় ১৯ হাজার ব্যক্তিকে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৬০৩ জন। অর্থাৎ এখনো করোনা শনাক্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এরই মধ্যে সরকার কিছুটা শিথিলতা দেখানোর পথে হাঁটছে।

পশ্চিমা দেশগুলো কী করছে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ২০ জানুয়ারি। তবে শুরুতে দেশটিতে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা টের পাওয়া যায়নি। মার্চ থেকেই অবস্থা খারাপ হতে থাকে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার লকডাউন ঘোষণা করেনি। তবে ওই দেশের রাজ্য সরকারগুলো মার্চের মাঝামাঝিতেই নিজ নিজ রাজ্য লকডাউন ঘোষণা করতে শুরু করে। তখন যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ছিল তিন হাজারের কাছাকাছি। মারা যান অর্ধশাতাধিক।

এখন অবশ্য আক্রান্ত ও করোনাভাইরাসে মৃতের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র সবার শীর্ষে। গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে আট লাখের বেশি। মারা গেছেন ৪৪ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে দেশটিতে লকডাউন তোলার জন্য বিক্ষোভ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও অর্থনীতি সচল করার পক্ষে। রাজ্য সরকারগুলো সময় নিতে চাইছে।

ইউরোপে সবার আগে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হয় ইতালিতে। দেশটিতে প্রথম শনাক্ত হয় ৩০ জানুয়ারি। প্রথমে উত্তরের লম্বার্ডি প্রদেশে, বিশেষ করে প্রাদেশিক প্রধান শহর মিলানে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নানা বিধিনিষিধ আরোপ করার পরও পরিস্থিতি অবনতি হতে থাকে। একে একে শহর, অঞ্চল, একপর্যায়ে পুরো দেশ লকডাউন ঘোষণা করা হয় ১০ মার্চ। তখন দেশটিতে কোরোনায় আক্রান্ত ছিলেন ছয় হাজারের মতো। তখনো মৃতের সংখ্যা ছিল ৬০০–এর কিছু বেশি।

এই লকডাউনের মধ্যেই ১ লাখ ৮০ হাজারের ওপরে মানুষের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছেন ২৪ হাজারের বেশি মানুষ। লকডাউন ঘোষণার সোয়া এক মাস পর এখন আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা কমে আসছে। এরপরও সবকিছু খুলে দিতে সাহস পাচ্ছে না ইতালি সরকার। সীমিত আকারে কিছু কার্যক্রম চালু করেছে।

স্পেনে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ইতালির এক দিন পর। তাঁরাও প্রথমে আঞ্চলিক ও শহরভিত্তিক নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। সফল না হয়ে ১৪ মার্চ সারা দেশ লকডাউন বা কোয়ারেন্টিনে পাঠায়। লকডাউন ঘোষণার সময় দেশটিতে ছয় হাজারের কিছু বেশি আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছিল। তখন প্রাণহানি ছিল খুবই কম; ২০০–এর মতো। লকডাউন চলার পরও এখন পর্যন্ত স্পেনে দুই লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ২১ হাজারের বেশি মানুষ। ইতালির মতো স্পেনে সবচেয়ে খারাপ সময়টা পেরিয়ে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, এখন প্রাণহানি কিছুটা কমে আসছে।

এ অবস্থায় গত সপ্তাহে কিছু দোকানপাট খুলেছে। ২৬ এপ্রিল থেকে সব খুলে দেওয়ার কথা ভাবছে। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লকডাউন ৯ মে পর্যন্ত বর্ধিত করার কথা ভাবছে। অর্থাৎ, অন্তত ১ মাস ১২ দিন পর তা খুলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পেরেছে।

যুক্তরাজ্যে পুরোপুরি লকডাউনে যায় ২৩ মার্চ। ৭ মে পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এরপর কিছুটা শিথিল করার পরিকল্পনা আছে। এর মধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকতে হয়েছে তাঁকে। দেশটিতে এখন করোনায় আক্রান্ত রোগী আছেন সোয়া লাখের ওপরে। মারা গেছেন ১৭ হাজারের বেশি।

জার্মানির বাভারিয়া স্টেটে প্রথম লকডাউন শুরু হয় ২০ মার্চ। এরপর অন্যান্য স্টেটে তা সম্প্রসারণ করা হয়। গত সোমবার আস্তে আস্তে বিধিনিষেধ শিথিল করা শুরু হয়। বাইক শপ, বইয়ের দোকান, কিছু শিল্পকারখানাও। অপেক্ষাকৃত বড় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাসও শুরু করার কথা ভাবছে। ৪ মে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা ভাবছে দেশটি। তবে গণজমায়েত আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে প্রায় দেড় লাখ। সে তুলনায় মারা গেছেন কম, প্রায় পাঁচ হাজার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, লকডাউনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সংক্রমণ কমানো। অর্থনীতির স্থবির হয়ে যাওয়া হচ্ছে এর বাই প্রোডাক্ট। বাংলাদেশের লকডাউনে দেখা যাচ্ছে অর্থনীতি ঠিকই স্থবির হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু লকডাউনের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব তৈরির মাধ্যমে যে সংক্রমণ কমানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তা কতটা অর্জিত হচ্ছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরিই বন্ধ। কিন্তু মানুষ কি অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি পুরোপুরি বন্ধ করেছে? মনে হয় না। এ জন্য ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোয় সংক্রমণ বেশ বেড়ে গেছে। এসব এলাকায় শিগগিরই লকডাউন তুলে ফেলা কঠিন। সংক্রমণ কমে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারলেই লকডাউন শিথিল করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে হয়তো অঞ্চলভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

সংবাদ খুজুন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৪৭,১৫৩
সুস্থ
৯,৭৮১
মৃত্যু
৬৫০

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬,২৬৬,৮৮৮
সুস্থ
২,৮৪৭,৫২৮
মৃত্যু
৩৭৩,৯৬০
ঢাকা, বাংলাদেশ।
সোমবার, ১ জুন, ২০২০
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৩:৪৫
সূর্যোদয়ভোর ৫:১১
যোহরদুপুর ১১:৫৬
আছরবিকাল ৪:৩৬
মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৪২
এশা রাত ৮:০৮

ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিনঃ

 
সেরা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম – SeraNews24.Com ☑️
পাবলিক গোষ্ঠী · 23,009 জন সদস্য

গোষ্ঠীতে যোগ দিন

প্রতিমুহূর্তের সংবাদ পেতে Like দিন অফিশিয়াল পেইজ এ।
নিউজ পোর্টাল: www.SeraNews24.Com
ফেসবুক গ্রুপ: http://bit.do/SN24FBGroup
ইউটিউব চ্যানেল: http://bi…
 

 About Us     Contact     Privacy & Policy     DMCA     Sitemap

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সেরা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম ২০১৮

Design & Developed By Digital Computer Center
error: Content is protected !!