যেভাবে আমরা প্রতিদিন নিজেদেরই খুন করি – সেরা নিউজ ২৪ ডটকম | SeraNews24.Com | সর্বদা সত্যের সন্ধানে
সংবাদ শিরোনাম :
কুমারখালী বাসীর কাছে নৌকায় ভোট চাইলেন এমপি আব্দুর রউফ । কুমারখালীর উপজেলা সদকী কাঁঠাল ডাঙ্গী গ্ৰামে আ.লীগের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত। সরকারি তিতুমীর কলেজস্থ লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের কমিটি অনুমোদন ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী হানাদার মুক্ত দিবস। কুমারখালী তেবাড়ীয়া গ্ৰামে নৌকায় ভোট চাইলেন কুমারখালী উপজেলা যুবলীগ। কুমারখালী তে আগ্নেয়াস্ত্র নবায়ন করতে এসে ভুল বসতো ছোঁড়া হলো গুলি। কুমারখালী তে উপজেলা আ’লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্টিত। কুমারখালী তে অবৈধ দুইটি ইটের ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। ফরিদপুর -৪ আসনের এবার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান (নিক্সন) তার জয় প্রায় নিশ্চিত।
যেভাবে আমরা প্রতিদিন নিজেদেরই খুন করি

যেভাবে আমরা প্রতিদিন নিজেদেরই খুন করি

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ছিল গতকাল। প্রতিবছরই আমরা আগের বছরের তুলনায় ঘটা করে পরিবেশ দিবস পালন করি। কিন্তু পরিবেশ রক্ষায় আমরা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছি? খোদ রাজধানীই বসবাসের অনুপযোগী শহরে পরিণত হয়েছে। বায়ুদূষণে আমরা পৃথিবীতে দ্বিতীয়। নদীগুলোকে রীতিমতো নর্দমা বানিয়ে ফেলেছি। খাল ভরাট, শব্দদূষণ, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত স্থাপনাসহ সার্বিক বিবেচনায় পরিবেশগত দিক থেকে এর চেয়ে খারাপ অবস্থা আর কি হওয়া সম্ভব? ঢাকার পরিবেশগত পরিস্থিতি নিয়ে সবিস্তারে লিখেছেন আবুল হাসান রুবেল

ঈশ্বরগুপ্ত কলকাতার উৎপাত নিয়ে লিখেছিলেন, ‘রাতে মশা দিনে মাছি, এই নিয়ে কলকাতায় আছি।’ আমরা ঢাকায় কী নিয়ে আছি, সেই প্রশ্ন করার চেয়ে বোধ হয় ভালো কী নিয়ে নেই সে প্রশ্ন করাই ভালো। বিশেষত পরিবেশগত ব্যাপারে। বায়ু দূষণ? সেটাতে আমরা পৃথিবীতে দ্বিতীয়। নদী দূষণ? নদীগুলোকে আমরা রীতিমতো নর্দমা বানিয়ে ফেলেছি। খাল ভরাট? সেটাতে আমাদের চেয়ে কাবিল কেউ নেই। শব্দ দূষণ? সেটাকে আমরা আমাদের সাধারণ সংস্কৃতির অংশ বানিয়ে ফেলেছি। জলাবদ্ধতা? একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকার রাস্তায় নৌকা চালানোর পরিস্থিতি হয়। রাস্তায় যেখানে সেখানে যখন তখন খোঁড়াখুঁড়ি, যত্রতত্র ময়লা ফেলে রাখা, প্লাস্টিক পলিথিনের অতি ব্যবহার ও সেগুলো দিয়ে ড্রেনগুলোকে বন্ধ করে ফেলা, অপরিকল্পিত স্থাপনা—এর সব কিছুই আপনি ঢাকা শহরে পাবেন। পরিবেশগত দিক থেকে এর চেয়ে খারাপ অবস্থা আর কী হওয়া সম্ভব, সেটা কল্পনা করা আমাদের জন্য কঠিন হলেও আমাদের কল্পনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিনিয়তই তা আরো খারাপ হচ্ছে।

এখন বর্ষাকাল, আর জলাবদ্ধতার সমস্যাটা একেবারে জ্যান্ত। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়, মানুষের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। গত বছর মেয়র-মন্ত্রীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এ বছর থেকে কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না। কিন্তু পরিস্থিতির কোনোই পরিবর্তন হয়নি। যথা পূর্বং তথা পরং। এই যে অবস্থা এর আসল কারণ কী? এর প্রধান কারণ ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর দখল ও ভরাট হওয়া এবং ঢাকার ভেতরে থাকা খালগুলোরও একই পরিস্থিতি হওয়া। এর ফলেই ঢাকার পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে এই পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে। ঢাকা ওয়াসার হিসাবেই ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত রাজধানীতে ৫৪টি খালের অস্তিত্ব ছিল। বেশির ভাগ খালের মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র ছিল, এগুলোর সংযোগ ছিল রাজধানী-লাগোয়া প্রধান চারটি নদ-নদীর সঙ্গে। সূত্রাপুর-লোহারপুল হয়ে বুড়িগঙ্গা, মোহাম্মদপুরের বছিলা হয়ে বুড়িগঙ্গা, উত্তরার আবদুল্লাহপুর হয়ে তুরাগ, উত্তরখান হয়ে তুরাগ, খিলক্ষেত-ডুমনি হয়ে বালু ও মানিকনগর হয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে সংযোগ ছিল খালগুলোর। সে সবই এখন বিস্মৃত অতীত মাত্র। সরকার রাজধানীর মধ্যাঞ্চলে দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও হাতিরঝিলের পানি নিষ্কাশনের সহজ মাধ্যম রামপুরা খাল সংস্কার ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেগুনবাগিচা খালের ওপর বক্স কালভার্ট তৈরি করে তার ওপর রীতিমতো স্থায়ী সড়কপথ গড়ে উঠেছে। সেগুনবাগিচা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এ বক্স কালভার্ট প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় তা পানি নিষ্কাশনের যোগ্যতা হারিয়েছে। আবদুল্লাহপুর খাল ছিল রাজধানীর একাংশের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। রাস্তা ও রাজউকের প্লটের কারণে খালটি এরই মধ্যে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে এখন ছোট নালায় পরিণত হয়েছে। উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের লেকের উত্তর প্রান্ত এরই মধ্যে ভরাট হয়ে গেছে আবর্জনা ফেলার কারণে। ভরাটকৃত স্থানে প্লটও তৈরি করা হয়েছে। মাণ্ডা খাল ছিল রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম। দখলদারদের কবলে পড়ে এ খালটি সংকুচিত হতে হতে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। মোহাম্মদপুরের বছিলা খাল, মগবাজারের পরীবাগ খাল, আরামবাগ খাল, রাজারবাগ খাল, নন্দীপাড়া খাল, বাউখার খাল অস্তিত্ব হারিয়েছে।

গত কয়েক বছরে ঢাকায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে অনেকখানি। অনেকেই বলছেন এর কারণ হাতিরঝিল প্রকল্প যেভাবে করা হয়েছে সেটা। ব্যয়বহুল হাতিরঝিল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল যানজট নিরসন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রতিরোধ, ময়লা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। কিন্তু এখন জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পটির কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। উল্টো হাতিরঝিলের কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরের বড় অংশজুড়ে জলজট দেখা দিচ্ছে। এর একটা বড় কারণ হাতিরঝিল অনেক হাঁকডাক করে করা হলেও তার পানি নিষ্কাশনের জন্য রামপুরা খালকে উদ্ধার ও সচল করা হয়নি; বরং হাতিরঝিলের পানিও নগরে জলাবদ্ধতায় যোগ করছে নতুন মাত্রা।

আর পানির মান? ঢাকার আশপাশের নদী, জলাশয়গুলোর পাশ দিয়ে যেতে হলে নাক চাপতে আপনি বাধ্য, যদি এই শহর এখনো আপনার নাকের সংবেদনশীলতা পুরোপুরি ইতিমধ্যেই নষ্ট করতে না পেরে থাকেন। সদরঘাটে বুড়িগঙ্গার পানি কুচকুচে কালো। হাজারীবাগে রক্তের মতো লাল। তুরাগের পানি কোথাও কালো, কোথাও গাঢ় নীল বর্ণ। টঙ্গীতে বালু নদের পানি ধূসর। কলকারখানার বর্জ্য, পলিথিন ও মানববর্জ্য জমা হয়ে বুড়িগঙ্গার তলদেশে ১০ থেকে ১২ ফুট স্তর পড়েছে। এতে নদীর নাব্য হ্রাসের পাশাপাশি এর পানিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দূষণের ফলে ভূ-উপরিভাগের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা যে পরিমাণ পানি সরবরাহ করছে, তার শতকরা ৮৬ ভাগই ভূ-গর্ভস্থ স্তর থেকে তোলা হচ্ছে। ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর দুই থেকে তিন মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় নগরবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। অন্যদিকে নদীর তীর বা আশপাশে বসবাসকারী লোকজন গোসল, রান্নাবান্নাসহ বিভিন্ন কাজে নদীর পানি ব্যবহার করায় ডায়রিয়া, কলেরাসহ নানাবিধ স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। এই নদীগুলোতে জলজ প্রাণের অস্তিত্বই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আর ঢাকা শহরে বাতাসের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা একটা তথ্য থেকেই অনুমান করা যাবে। প্রতিবছর দূষণের ফলে পৃথিবীতে ১৭ লাখ শিশুর মৃত্যু ঘটে, তার ভেতরে দুই লাখ ৮০ হাজার ঘটে বাংলাদেশে, এর আবার একটা বড় অংশ ঢাকা শহরে। ঢাকা শহরের বাতাস এখন সবচেয়ে দূষিত বাতাসের মধ্যে পড়ে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণা বা ‘পিএম ২.৫’-এর মানমাত্রা হচ্ছে প্রতি কিউবিক মিটারে ১৫ মাইক্রো গ্রাম। ‘পিএম ১০’ বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার মানমাত্রা ৫০ মাইক্রো গ্রাম। ২০১৫ সালে রাজধানীতে পিএম ২.৫-এর গড় ছিল ৮১ মাইক্রো গ্রাম। ২০১৬ সালে ছিল ৭৬ মাইক্রো গ্রাম। পিএম ১০-এর গড় ২০১৫ সালে ১৪৮ মাইক্রো গ্রাম ও ২০১৬ সালে আরো বেড়ে হয়েছে ১৫৮ মাইক্রো গ্রাম।

গত বছর মেয়র-মন্ত্রীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এ বছর থেকে কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না। কিন্তু পরিস্থিতির কোনোই পরিবর্তন হয়নি। যথা পূর্বং তথা পরং

এই দূষণের ফলে এখানে এজমা, ব্রংকাইটিস, রাইনিটিস, নাকের এলার্জি, ক্রনিক অবস্ট্রাকিটভ পালমোনারি ডিজিজসহ শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগ হচ্ছে। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ঢাকা শহরে শ্বাসতন্ত্রের রোগের যেন একটা প্রকোপ শুরু হয়েছিল। কেন এই সময়ই এই রোগের প্রকোপ এত বাড়ে, সেটা দেখলেই বোঝা যায় ঢাকা শহর হিসাবে কতটা অপরিকল্পনা আর অবহেলার শিকার। সবাই যেন ঢাকাকে ব্যবহার করে তাদের আখের গোছাতে চায়, শহরটার আর সেখানে বসবাসকারী মানুষের কথা বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে।

ঢাকা শহরে দূষণের কারণ দেখলে দেখা যাবে এখানে বায়ু দূষণের ৫৮ ভাগের কারণ হচ্ছে ইটভাটার ধোঁয়াশা, ১৮ ভাগের জন্য দায়ী রাস্তাঘাট ও নির্মাণ সামগ্রীর ধুলা, ১০ ভাগের জন্য দায়ী হচ্ছে যানবাহনের ধোঁয়া, আর সব কিছু মিলে বাদবাকি দূষণ ঘটে। ঢাকা শহরের আশপাশে বিশেষত উত্তর দিকে আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর অঞ্চলে ইটভাটাগুলো অবস্থিত। ডিসেম্বর, জানুয়ারিতে যখন উত্তর দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হয়, তখন উত্তর থেকে ইটভাটার ধোঁয়া ঢাকায় আসে, যার ভেতরে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মারাত্মক বস্তুকণা থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী এ সময় ঢাকার বাতাসকে বলা যায় চরম অস্বাস্থ্যকর। এরপর ফেব্রুয়ারি থেকে যখন উত্তর থেকে বাতাস আসা বন্ধ হয়, তখন ঢাকার বাতাস হয় মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর। কারণ ইটভাটার বাতাস তখন খুব না এলেও অন্যান্য দূষণ অব্যাহত থাকে। এ সময় বৃষ্টিপাত খুব না হওয়ায় বাতাসে ধুলার পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত কয়েক বছর থেকে ফ্লাই ওভারের ধুলা। ঢাকা শহরের বাতাস স্বাস্থ্যকর থাকে জুন-জুলাই মাসে, যখন বাতাস আসে দক্ষিণ থেকে আর ধুলা নোংরা ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

ব্যয়বহুল হাতিরঝিল প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন। এখন উল্টো হাতিরঝিলের কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরের বড় অংশজুড়ে জলজট দেখা দিচ্ছে

আর শব্দ দূষণকে যেন আমরা সাধারণ সংস্কৃতির অংশ বানিয়ে নিয়েছি। রাস্তায় নামলেই দেখা যাবে সামনে একচিলতে নড়ার জায়গা নেই, তবু গাড়িগুলো হর্ন দিয়েই চলেছে। আর হর্ন খেয়েও আশপাশের মানুষের কোনো বিকার নেই। গান-বাজনা, ওয়াজ মাহফিল, রাজনৈতিক বক্তৃতা সব কিছুতেই এমনভাবে মাইক ব্যবহার করা হয়, যাতে অন্যের জন্য বিবেচনার তেমন কোনো স্থান নেই। ঢাকা শহরে মাইক ব্যবহার করার জন্য অনুমতি নেওয়ার বিধান আছে, সেটা বিরোধী দলের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। এমনকি রাতের নিস্তবদ্ধতা বলেও কোনো কিছুর অস্তিত্ব এই শহরে আর নেই। শব্দ দূষণকে সাধারণভাবে দূষণ বলেই মনে করা হয় না। ঢাকায় কোনো উপলক্ষ ছাড়াই স্থানভেদে সহনীয় মাত্রার চেয়ে দেড় থেকে দুই গুণ বেশি শব্দ উৎপন্ন হচ্ছে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০০৬ সালে বিধিমালা পাস হলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ নেই। এ কারণে ভুক্তভোগীদের উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মনঃসংযোগ কমে যাওয়া, মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ ও বিরক্তিভাবসহ নানা রকম রোগের উপসর্গে ভূগতে হচ্ছে। উচ্চ শব্দের উৎসগুলো বেড়েই চলেছে।

এ ছাড়া আছে মাটির দূষণ, অবিরাম গাছপালা কেটে ফেলা, মেডিক্যাল বর্জ্যের দূষণ, নতুন করে যুক্ত হওয়া ডিজিটাল দূষণ, মোবাইল টাওয়ারের দূষণসহ নানা রকম দূষণ। দিনের পর দিন এগুলো বেড়েই চলছে। আর কমছে দূষণ রোধে তৎপরতা। ইপিএর প্রতিবেদন অনুসারে ২০০৬ সালে দূষণ রোধে যেখানে বাংলাদেশ ছিল ১২৫তম, তা ধীরে ধীরে ২০১৮ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ১৮০ দেশের মধ্যে ১৭৯তম। অথচ প্রতিবছরই আগের বছরের চেয়ে ঘটা করে পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। বড় বড় বাণী দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষার আয়োজনের চেয়ে দিবস পালনের আড়ম্বর বেশি। আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজ যে প্রকৃতি উপযোগী হওয়া দরকার, সেটা আমরা ভুলে যাই। এমনকি খোদ পরিবেশমন্ত্রী গাছ কাটা, বন ধ্বংসের পক্ষে ওকালতি করেন। আমরা যে ডালে বসে আছি সেই ডালটাই কেটে ফেলছি প্রতিনিয়ত। এটা চরম বোকামি হলেও আমরা এগুলো নিয়ে কথা বলাকেই বোকামিজ্ঞান করে, চালাকির হাসি হাসি। আর এভাবেই হাসতে হাসতে আমাদের নিজেদেরই খুন করছি প্রতিনিয়ত।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত ‍লিখুন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

সংবাদ খুজুন

নামাজের সময়সূচী

সেহরীর শেষ সময় - ভোর ৫:১২
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৫:১০
  • দুপুর ১১:৫৭
  • বিকাল ৩:৩৮
  • সন্ধ্যা ৫:১৭
  • রাত ৬:৩৬
  • ভোর ৬:৩৩

ফেসবুক গ্রুপ অনুসরন করুনঃ

 
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ – World Cup Football 2018 – SeraNews24.com ☑️
Facebook Group · 35,396 members

Join Group

প্রতিমুহূর্তের সংবাদ পেতে ভিজিট করুন “সেরা নিউজ ২৪ ডটকম”
www.SeraNews24.com
 

 About Us     Contact     Privacy & Policy     DMCA     Sitemap

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত সেরা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম -২০১৮