বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ব্যতিক্রমধর্মী শোক দিবস পালন করলেন ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা স্বাধীন – সেরা নিউজ ২৪ ডটকম | SeraNews24.Com | সর্বদা সত্যের সন্ধানে
সংবাদ শিরোনাম :
মাওনা প্রিমিয়ার লীগে ভিক্টরিয়া একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভাইকিংস একাদশ ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আধুনিক মঞ্চ নাটক প্রদর্শনী তিতুমীরে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ চকবাজার অগ্নিকান্ডে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালিত কবি সাজেদুল হকের ” মাছরাঙার শহরে, উড়ে যাওয়া পাখির দূরে যাওয়া শূন্যতা “ শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আলহাজ্ব আব্দুল জলিলকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে চায় শ্রীপুরবাসী কুষ্টিয়া তে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ কুমারখালী তে বই উৎসব ২০১৯ অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া -৪ আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জ বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী। নৌকায় ভোট চাইলেন তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ নেতা হাসানুর রহমান শাওন
বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ব্যতিক্রমধর্মী শোক দিবস পালন করলেন ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা স্বাধীন

বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ব্যতিক্রমধর্মী শোক দিবস পালন করলেন ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা স্বাধীন

shadin DU

স্টাফ রিপোর্টার

মহান আগস্টের শোককে মহতী শক্তিতে রুপান্তরিত করার প্রত্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এর সদ্য সাবেক সহ সভাপতি স্বাধীন মোঃ শাহেদ এর ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুদিন ব্যাপি ব্যতিক্রমধর্মী বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

ব্যতিক্রমধর্মী এই কর্মসূচী সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাধীন জানান, ” গতানুগতিক শিন্নি-তবারক, লোক দেখানো মাইক বাজিয়ে দলাদলি, ফুল নিয়ে ধাক্কাধাক্কি ইত্যাদির ব্যতিক্রম করে আমি চেয়েছি এমন কিছু করতে যাতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় আমি সামান্যতম হলেও ভুমিকা রাখতে পারি।

পূর্বের পালিত কর্মসূচী গুলির তিক্ত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি জানান,”আমি গত কয়েক বছর ধরেই নিয়মিত মিলাদ মাহফিল আয়োজন করতাম এই দিনে। কিন্তু আমি লক্ষ করেছি,মিলাদ মাহফিলে সবার কমবেশি নজর থাকে তোবারকের দিকে। আলোচনা অনুষ্ঠানে নজর থাকে ইতিহাসের চেয়ে গলাবাজি চিল্লানীর দিকে।তাছাড়া অধিকাংশ আলোচকই খুব একটা ভাল জানেন না।গতবাধা কথা শুনতে কারোরই ভাল লাগেনা।  প্রধান অতিথি,বিশেষ অতিথি কে হবেন তা নিয়েও আমি রেষারেষি করা দেখেছি।কিন্তু শেখ মুজিবের জন্য দরদ ভরে কাদতে দেখেনি,তার স্মৃতির উদ্যেশ্যে ভাল কাজ করার প্রত্যয় দেখেনি। ”

তিনি আরো জানান, ” আমি এবার শোক দিবসে এমন কিছু করতে চেয়েছি,যেটা দেখে সমালোচকরাও বলবে, এই তো আমার সোনার বাংলা! আমি তাই প্রথমেই বাঁশের সেতু টা করার সময়েই ভাবছিলাম এমন কিছু করতে যাতে ধাক্কাধাক্কি, দলাদলি, রেষারেষি থাকবেনা। আবার এমন কিছু যার ফলাফল যুগের পর যুগ সাধারন জনগন ভোগ করবে।”
কি কি ব্যতিক্রমী চিন্তা মাথায় আসে এমন প্রশ্ন করায় তিনি জানান, “কয়েকটা কাজ মাথায় আসে। তার মধ্যে নিজের থানার প্রত্যেক টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিড ব্রেকার তৈরি করা ছিল প্রথমে।কিন্তু নানাবিধ কারনে সেটা একার পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বিধায় আমি গাছ লাগানোর পক্ষে উদ্যোগ নিলাম।”

কিন্তু বৃক্ষরোপন তো নতুন কিছু না। এমনকি আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটা হলেও এ কর্মসূচী পালিত হয়েছে। তাহলে আপনি একে ব্যতিক্রমধর্মী বলছেন কেন?এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি যুক্তি তুলে ধরেন,”দেখুন,প্রতি বছরই এটা করা হয়।কিন্তু পরবর্তী বছরে সে গাছের আর হদিস থাকেনা!কেন?  কারন যত্নআত্তির অভাবের পাশাপাশি এই হদিস না পাওয়ার অন্যতম কারন বনবিভাগ থেকে ফ্রিতে পাওয়া একেবারেই ছোট ছোট চারাগাছ। যা এক বছর পর খুজে না পাওয়াই সাভাবিক।
তাই আমি এমন গাছ লাগিয়েছি,যেগুলি যথেষ্ট বড়,ঝর বাতাসে ভেঙে যাবেনা,পুষ্টিহীনতায় মারা যাবেনা।এছাড়া প্রত্যেক টা গাছে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছি যাতে গরু ছাগলে খেয়ে না ফেলে। আর সব থেকে বড় কথা দু একটি বাদে, প্রায় সব গাছ গুলিই নিজ হাতে মেহনত করে যত্নের সাথে লাগিয়েছি।যাতে গাছের গোড়ায়  দাঁড়িয়ে শুধু সেলফি তোলার বাতিক না থাকে,ঘাম ঝড়ানো আবেগও যেন থাকে। এই আবেগটা যদি যারা প্রত্যেক বছর ফ্রিতে গাছ লাগান তাদের মাঝে  থাকত,তাহলে নিজের লাগানো গাছটাতে অন্তত নিজে বাচিয়ে রাখার যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহন করত।কিন্তু বাস্তবতা ভীন্ন কথা বলে।
তিনি আরো যুক্তি তুলে ধরেন,”গাছ লাগানো কর্মসূচির মধ্যে আমার আজকের কর্মসূচি ব্যতিক্রম বলছি আরো একটা কারনে। সেটা হল গাছ লাগানোর স্থান।রাস্তার দুই ধারে,জলাধারের পারে,খালের পাশে,খেলার মাঠের পাশে,সরকারি পতিত জমি,তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আমি গাছ লাগিয়েছি এমন জায়গায় যেখানে গাছ লাগানো অতিব জরুরী। যেমন আমি পরানপুর সাথি সঙ্গ খেলার মাঠের পাশে যে আবর্জনার স্তুপ ছিল সেটা পরিস্কার করে গাছ লাগিয়েছি। এই জায়গাটা নোংরা বিধায় অন্যদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। আমি আমার নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত গনশৌচাগারের সামনে গাছ লাগিয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে,শৌচাগারের সামনের এ জায়গায় লাগানো গাছ গুলি পরিবেশ স্নিগ্ধ রাখায় যথেষ্ট ভুমিকা রাখবে।আমি বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের সামনে তো অবশ্যই,এর সাথে গাছ লাগিয়েছি বিদ্যালয়টির পেছনে যেখানে মাটি ভেঙে পাশের দুটি খালে চলে যাচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে। ”

তাকে কেও কোন ভাবে সাহায্য করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান,আর্থিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোন সাহায্য তিনি প্রত্যাশা করেন না।তবে এ কাজে তাকে বুদ্ধি পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে ছিলেন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুকুর আলি মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম,আকিদুল, জাভেদ, মজনু ও বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ছাত্রী।

সকলের উদ্দেশ্যে স্বাধীন বলেন, ” আসুন আজকের দিনটাকে শুধুমাত্র মিটিং,মাইকিং,কেনা ফুল প্রদানের মধ্যেই কেবল সীমাবদ্ধ না রেখে এমন কিছু ব্যতিক্রম কাজ করি,যেটা দেখে বিএনপি জামাতের লোকেরা বছরের পর বছর দেখবে আর কষ্টে কাতরাবে।আর যদি কোনদিন দল ক্ষমতায় না থাকে,সেদিন আমরা আমাদের ঐ কাজগুলিকে দেখিয়ে বলতে পারব,ব্যক্তিকে হত্যা করা যায়,আদর্শকে নয়। ”

উল্লেখ্য, এর আগে স্বাধীন তার স্থানীয় জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত ‍লিখুন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

সংবাদ খুজুন

ফেসবুক গ্রুপ অনুসরন করুনঃ

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ – World Cup Football 2018 – SeraNews24.com
Facebook Group · 35,396 members
 

Join Group

 

প্রতিমুহূর্তের সংবাদ পেতে ভিজিট করুন “সেরা নিউজ ২৪ ডটকম”
www.SeraNews24.com

 About Us     Contact     Privacy & Policy     DMCA     Sitemap

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত সেরা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম -২০১৮