পৃথিবীর সেরা ৪টি উদ্ভাবন | | সেরা নিউজ ২৪ ডটকম | SeraNews24.Com | সর্বদা সত্যের সন্ধানে
বিজ্ঞপ্তিঃ

দেশের জনপ্রিয় জাতীয় অনলাইন দৈনিক “সেরা নিউজ ২৪ ডটকম” এর সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মঠ, সৎ, সাহসী পুরুষ ও মহিলা সংবাদদাতা/প্রতিনিধি/বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ 01727747903 ইমেইলঃ [email protected]

পৃথিবীর সেরা ৪টি উদ্ভাবন

পৃথিবীর সেরা ৪টি উদ্ভাবন

এই পৃথিবীতে প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন কিছু উদ্ভাবন বা আবিষ্কার হচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে আবিষ্কারের সংখ্যা ততো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে যত আবিষ্কারই বৃদ্ধি হয় না কেন, এমন কিছু আবিষ্কার আছে যা পৃথিবী ধ্বংসের শেষ সময় পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন হিসাবে স্বীকৃতি থাকবে।এই পৃথিবীর মধ্যে অনেক উদ্ভাবনী আছে যা দ্বারা মানুষ প্রাচীন সভ্যতা থেকে আধুনিক সভ্যতার মধ্যে চলে আসছে।এই পৃথিবীর মধ্যে মানুষের তৈরি হাজার হাজার উদ্ভাবন আছে যা কখনও গুনে শেষ করা যাবে না, তবে এখন পর্যন্ত মানুষের তৈরি ৪টি উদ্ভাবনকে শ্রেষ্ঠ মহা উদ্ভাবন হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই মহা ৪টি উদ্ভাবন হল।

১। কম্পাস
২। গানপাউডার
৩। কাগজ
৪। ছাপার যন্ত্র (প্রিন্টিং)

উপরের এই ৪টি মহা উদ্ভাবন এই মহাবিশ্বের মধ্যে শুধু সভ্যতা গঠনে ভূমিকা রাখে নাই ।বিশ্বকে প্রাচীন সভ্যতা থেকে আধুনিক সভ্যতার মধ্যে নিয়ে গেছে।তবে বিশ্বের সেরা কয়েকজন আধুনিক বুদ্ধিজীবীদের মতে এই উদ্ভাবন গুলো আধনিক সভ্যতার দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে।যার ফলে প্রাচীন সভ্যতা পরিবর্তনের বেশি অবদান রেখেছিল। – প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়ে প্রভাব ফেলার জন্যই কেবল ৪টি মহা উদ্ভাবকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখা হয়ে থাকে।

১.কম্পাস

“দিক নির্দেশক’’’ এর জন্য একটি চুম্বক জাতীয় যন্ত্র ব্যবহারের প্রথম দেখা পাওয়া যায় ১০৪০-১০৪৪ সালের দিকে, যা সং সাম্রাজ্যের একটি গ্রন্থের মধ্যে পাওয়া যায়। সেখানে লৌহ নির্মিত একটি “দক্ষিণ-মুখী মাছের” উল্লেখ আছে যা এক বাটি পানিতে ভাসমান অবস্থায় দক্ষিণমুখী হয়। যন্ত্রটিকে “রাতের আধারে” পথ বোঝার মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যাইহোক, প্রথম নিমজ্জিত সূচালো চুম্বক কম্পাসের উল্লেখ পাওয়া যায় শ্যেন কুও কর্তৃক ১০৮৮ সালে রচিত একটি গ্রন্থের মধ্যে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইতিহাসের খুজলে দেখা যায় যে, চিনে বেশিরভাগ জায়গায় বাটির পানিতে নিমজ্জিত কম্পাসের দেখা পাওয়া গিয়েছে। নিধেমের মতে সং সাম্রাজ্য ও পরবর্তীতে ইউয়ান সাম্রাজ্যের মানুষগণ শুকনো কম্পাস ব্যবহার করেছিল, যদিও সেগুলো ব্যবহার দিকদিয়ে চীনের পানিতে রাখা কম্পাসের মত ব্যপকভাবে ছিল না।
চীনে ব্যবহার হওয়া শুকনো কম্পাসগুলো ছিল সাধারণত শুকনো সাসপেনশন কম্পাস। একটি কাঠের তৈরি ফ্রেম কচ্ছপের আকারে কেটে একটি তক্তার সাহায্যে উপুড় করে ঝুলিয়ে মোমের সাহায্যে সন্ধানীপাথর আটকিয়ে এর লেজের দিকে সূচ বসিয়ে যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছিল ।ঐ যন্ত্রটিকে যতই চারিদিক এ ঘোরানো হোক না কেন সূচটি সবসময় উত্তরমুখী হয়ে স্থির হয়ে থাকবে।

২.গান পাউডার

চীনের আল কেমিগণ তাদের জীবন অমরত্বের অমৃত খুঁজতে গিয়ে গানপাউডার আবিষ্কার করেন। সং সাম্রাজ্যের শাসনা এর আমলে জেং গংলিয়াং এবং ইয়াং ওয়েইডি কর্তৃক ১০৪৪-এ রচিত গ্রন্থ উজিং জংইয়াও-এ)  গানপাউডারের নাইট্রেট মাত্রা ২৭% থেকে ৫০% বলা হয়েছে। দ্বাদশ শতাব্দীর শেষদিকে চীনারা যে মাত্রায় নাইট্রেট ব্যবহার করে গানপাউডার বানাত তার বিস্ফোরণ ঢালাই লোহা দিয়ে তৈরি ধাতব কনটেইনার ভেদ করতে পারত।

১২৮০ সালে ওয়েই ইয়্যাং-এর বিশাল গানপাউডার আর্সেনাল এর আগুন লেগে যায়। যার ফলে একটি বিশাল বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর চীনা পরিদর্শক ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন যে, ২০০ জন সিপাহী নিহত হয়েছিল।তারা দেখতে পায় যে, একটি কাঠের বীম ও কিছু পিলার গিয়ে উড়তে উড়তে বিস্ফোরণস্থল থেকে ১০ কিলোমিটার (-২ মাইল অথবা -৩.২ কিলোমিটার) দূরে গিয়ে পড়েছিল।

চতুর্দশ শতকে জিয়া ওই উ সামরিক ব্যাবহারক্ষেত্রে গানপাউডার ব্যবহারের উপর যখন হুও লং জিং বই লিখেন, সেই সময় চীনারা গানপাউডারের বিস্ফোরণ মাত্রা সম্পূর্ণ ভাবে সংশোধন করেছিল এবং গানপাউডার এর নাইট্রেটের সঠিক মাত্রাও ঠিক করেছিল। তারা প্রায় ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন ফর্মুলা বের করেছিল। সেই সময় চীনারা নাইট্রেট সমৃদ্ধ গান পাউডার দিয়ে রাউন্ড শট বানানো শিখেছিল।

৪.কাগজ তৈরি

বিসহান সাম্রাজ্য এর শাসনা আমলে (২০২-বিসিএডি ২২০) সাম্রাজ্যের আদালতের সাথে যুক্ত এক কর্মকর্তা যার নাম- চাই লুন ১০৫ এডি-এ মালবেরী ও অন্যান্য বাস্ট তন্তু, মাছ ধরার জাল, পুরাতন ন্যাকড়া এবং হেম্প এর বর্জ্য ব্যবহার করে কাগজ তৈরি করেন।যাইহোক, সম্প্রতি সময়ে গান্সু থেকে কিছু লেখাসহ একটি কাগজ পাওয়া যায় যার বয়স প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৮ বছর।
খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী দিকে মোড়ানো এবং ফাঁকা জাইয়গা ভরাটের জন্য চীন দেশে কাগজের ব্যবহার হয়ে থাকলেও লেখার মাধ্যম হিসেবে কাগজ ব্যবহার পদ্ধতি ছড়িয়ে পরে তৃতীয় শতাব্দীর দিকে। এছারা ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝে চীনে টয়লেট পেপার হিসেবে কাগজের ব্যবহার শুরু হয়। ট্যাং সাম্রাজের (৬১৮থেকে৯০৭)সময়ে কাগজ সেলাই ও ভাঁজ করে টি ব্যাগ হিসেবে ব্যবহার করে চায়ের ঘ্রাণ সংরক্ষণের করতো। সং সাম্রাজ্য (৯৬০-১২৭৯) সর্বপ্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করা হয়েছিলো।

৪. ছাপার যন্ত্র

 পৃথিবীতে ছাপানোর সংস্কৃতি তৈরির কিছু সময় পূর্বে চীনে কাঠের টুকরো দিয়ে বই ছাপানোর পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়। মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্টের দায়িত্বে থাকা এ. হ্যায়াট মেয়র বলেন “এরা চীনারাই ছিল যারাই প্রকৃতপক্ষে যোগাযোগের মাধ্যম আবিষ্কার করেছিল যেটির প্রাধান্য আমাদের সময় পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। “[২৮]কাঠের টুকরো দিয়ে বই ছাপানোর পদ্ধতি চীনা বর্ণমালার সাথে বেশি খাপ খেয়েছিল চলনযোগ্য ছাপানোর যন্ত্রের তুলনায়, যেটিও চীনারাই আবিষ্কার করেছিল কিন্তু প্রথম পদ্ধতিটিই ধরে রেখেছিল। পশ্চিমা ছাপানোর যন্ত্র ষোড়শ শতাব্দীতে চীনে পরিচয় করানো হলেও ১৯ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত তা জনপ্রিয় হয়নি। চীন ও কোরিয়া সর্বশেষ রাষ্ট্রগুলোর অন্যতম হিসেবে এই যন্ত্রটি গ্রহণ করেছিল।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

সংবাদ খুজুন

ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিনঃ

 
সেরা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম – SeraNews24.Com ☑️
পাবলিক গোষ্ঠী · 23,009 জন সদস্য

গোষ্ঠীতে যোগ দিন

প্রতিমুহূর্তের সংবাদ পেতে Like দিন অফিশিয়াল পেইজ এ।
নিউজ পোর্টাল: www.SeraNews24.Com
ফেসবুক গ্রুপ: http://bit.do/SN24FBGroup
ইউটিউব চ্যানেল: http://bi…
 

 About Us     Contact     Privacy & Policy     DMCA     Sitemap

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সেরা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম ২০১৮

Design & Developed By Digital Computer Center
error: Content is protected !!