ধর্ম ও জীবন দর্শন : এড. মিজানুর রহমান | সেরা নিউজ ২৪ ডটকম | SeraNews24.Com | সর্বদা সত্যের সন্ধানে
ঘোষণাঃ

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীনে নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের "সংবাদ প্রকাশ করা" স্থগিত রাখা হলো...

পাটগ্রামে গ্ৰাম পুলিশের মাঝে সাইকেল বিতরণ পাটগ্রাম উপজেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ-মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে উন্মোচন অনুষ্ঠান বন্ধু দিবস উপলক্ষ্যে প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড-এর বিশেষ ক্যাম্পেইন পাটগ্রাম উপজেলায় লকডাউনের প্রথম দিনে কড়া অবস্থানে প্রশাসন আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয় না সইতে পেরে ব্রাজিল ভক্তের বিষপান কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় জরিমানা অগ্রযাত্রা পত্রিকার অনুসন্ধানী তৎপরতায় নিষিদ্ধ বিট কয়েন সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ ৪ জন র‍্যাবের অভিযানে আটক অগ্রযাত্রা পত্রিকার তৎপরতায় রায়পুরায় “ভুয়া সিআইডি” প্রতারক মিজান র‍্যাবের অভিযানে আটক পনের হাজার দুস্থ পরিবারকে নৌকার সাংসদ প্রার্থী এড. নয়নের ঈদ উপহার
ধর্ম ও জীবন দর্শন : এড. মিজানুর রহমান

ধর্ম ও জীবন দর্শন : এড. মিজানুর রহমান




এডভোকেট মিজানুর রহমানঃ
ধর্ম মানুষের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ন অধ্যায়। আত্মার সাথে সম্পর্কিত এক অবিচ্ছেদ্য জীবন প্রনালী। আদিকাল থেকে মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান পালন করে আসছে। ধর্মের সৌন্দর্য্য আর সত্যের অমর বানীর প্রতি আকৃষ্ট হয়েই কোন কোন সময় মানুষ তার পুরাতন নীজ অযৌক্তিক অধর্মের বিধান পরিত্যাগ করে নুতন মহামানবের মাধ্যমে নুতন ধর্ম গ্রহন করেছে, আবার কেউ পুরাতন ধর্মই পালন করে আসছে। পৃথিবীতে সকল ধর্মের বিকাশ স্থিতিশীল এবং মূল ধারা থেকে অনেক ধারা তৈরী হয়েছে।

প্রাচীনকালে পৃথিবীর বুকে যে যুদ্ধ প্রদর্শিত হয়েছে তা ধর্ম, বর্ন,গোত্র,শ্রেনীর বিরোধ ও বৈশম্য থেকে। রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের বা আদর্শের সাথে মতাদর্শের যুদ্ধ হয়েছে। পরবর্তিতে মানুষ বুজতে সক্ষম হয়েছে যুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কোটি কোটি মানুষের প্রানহানীর কারনে মানুষের ক্ষতিই বেশী হয়েছে।

ধর্ম মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রতিটি ক্ষনেই অনুভুত হওয়ায় তার প্রভাবেই জীবন পরিচালিত হয়।ভিন্নতার মাঝেও সামান্য সংখ্যক ব্যতিক্রমি লোক ব্যতিত সকলেই তার নীজ ধর্মকে ভালোবাসে।আত্মিক পরিশুদ্ধতার জন্য মানষীক প্রশান্তির জন্য ধর্মকর্ম মানুষের জন্য অপরিহার্য্য। প্রতিটি মানুষের ব্যাক্তি জীবনে ধর্মের অনুশাষন মেনে চললে সামাজীক ও রাষ্ট্রীয় আইন ভংগ হতো না। এজন্য রাষ্ট্রীয় আইন করার প্রয়োজন পড়তো না। সকল মানুষ তার নীজ ধর্মকে বিশ্বাস করে, ভালো বাসে, কিন্তু কিছু মানুষ ধর্মের অনুশাষন মেনে চলছে না।

সময়ের আবর্তনে মানুষ ধর্মের মূল্যবোধের আদর্শ থেকে ছিটকে পড়ে বেদাত কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছে। নীজের মত করে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে ভিন্ন ভিন্ন মত ও পথের সৃষ্টি করে ধর্মীয় জীবনকে কঠিন ও জটিল করে তুলেছে। ধীরে ধীরে মতভিন্নতা শত্রুতায় পরিনত হয়ে রক্তক্ষী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। কখোনো সুবিদাবাদী রাজনীতিবিদরা রাজনীতির সার্থে ধর্মের সংমিশ্রন ঘটানোর চেষ্টা করেছেন।

ধর্ম গ্রন্থের বিধিবিধানের মাধ্যমে অতীতে অনেক রাজা-বাদশা রাষ্ট্র পরিচালনা করার চেষ্টা করেছেন। তখন আধুনিক রাষ্ট্রের রুপরেখা বা কল্যান রাষ্ট্রের ধারনা মানুষের জানা ছিল না। ব্যাক্তি ও সমষ্টিগত অভিজ্ঞতা মানুষের ভুখন্ড শাষন পদ্ধতির নুতন নুতন দিক উন্মোচন করে দিয়েছে। ধর্মগ্রন্থ নির্ভর শাষন ব্যাবস্থার মাধ্যমে কোন রাষ্ট্র পরিচালনার উৎকৃষ্ট উদাহরন ও অনুকরনী না থাকায় রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য মানুষ যৌক্তিক মতবাদের উপর নির্ভর হতে থাকে। ধর্ম দর্শন ও যৌক্তিক মতবাদেরর মধ্যে পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই অনিস্পন্ন অবস্থায় অধিকাংশ ভূখন্ড শাষিত হচ্ছে।

গনতান্ত্রীক রাষ্ট্রে মানুষের কল্যান প্রতিষ্ঠার পরেই উন্নত জীবন, মানবাধীকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতার উপর কোন হস্তক্ষেপ থাকে না।ধার্মীকরা তাদের মত করে ধর্ম পালন করতে পারে। অন্য কোন লোককে ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না এবং কোন লোককে জোর পুর্বক ধর্ম পালনে ও ধর্মান্তরীত করতে বাধ্য করা যায় না। মানব মন্ডলীর জন্য বিদায় হজ্বের মর্মার্থ তাই ছিল।

বিশ্ব ভ্রমান্ড, গ্রহ নক্ষত্র তারকামন্ডীর,মহাজাগতিক শক্তি,ছায়াপথ,আলোক রশ্মি, উল্কা,আরো শক্তি মহাশক্তির আঁধার মানব জাতীর কল্পসীমানার বাহিরে । সৃষ্টির একটি কোষের রহস্য মানুষ আবিস্কার করতে সক্ষম হয়নি সেক্ষেত্রে শ্রষ্ঠার সৃষ্ট্রি কোন বিষয় মানুষ চেলেঞ্জ করতে পারে না। এই বিশালত্বের মাঝে তাকে বেঁচে থাকার সহজ সরল বোধগম্য দর্শন ধর্ম। আত্মার পরিশুদ্ধতার জন্য নিবৃত্তে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন আনুগত্যতার মাঝে বিশালত্বকে সহজ ভাবে অনূভব করতে শেখায়।

নাস্তিকতা একটি মতবাদ, একটি দর্শন , কোন নাস্তিক আদো সৃষ্টি ত্বত্তের কোন চুড়ান্ত মতবাদ উপস্থাপন করে প্রমান করতে না পারায় সেই মতবাদ বা দর্শনের সর্বজন স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক মর্যদা লাভ করতে পারে নাই। বিশ্ব -ভ্রমান্ড তারকা মন্ডলী বিগব্যাং কিভাবে সৃষ্টি হলো তার যৌক্তিক গ্রহন যোগ্য থিউরী নাস্তিকতন্ত্র এখনো উপহার দিতে পারেন নাই। যতটুকু ধারনা মানুষ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে তাহা সীমিত । নাস্তিকতা ব্যক্তির উপলব্দি মাত্র।

নাস্তিকতার তত্ব প্রচার প্রসারের কোন প্রতিষ্ঠান নেই, শুধু ব্যক্তির বিশ্বাস মাত্র। আস্তিকের পিছনে শ্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসের শক্তি থাকে কিন্তু নাস্তিকের পিছনে কোন শক্তি থাকে না। তারা দুর্বল থাকে। শারীরীক অক্ষমতার সময় বা মৃত্যু ভয়ের সময় নাস্তিকরাও নীজ ধর্ম মতে শ্রষ্টাকে স্বরন করে। মনের অজান্তেই তার দুর্বল সময়ে শ্রষ্টাকে স্বরন করে। কট্টর নাস্তিককেও মৃত্যুর সময় ঈশ্বর ঈশ্বর বা কালেমা পড়তে দেখা যায়।

জীবনের অপরাহৃে, সময়ের কাছে মানুষ হার মানতে বাধ্য হয়, সেই সময়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ, আল্লার প্রতি বিশ্বাস ও মাহাকালের সাথে Set featured imageসম্পৃক্ত হওয়ার অজানা অনন্ত জীবনের প্রতি বিশ্বাসই ধর্মীয় অনুশাষনের উৎকৃষ্ট দর্শন। ধর্মের সহজ সরল মানবীক মূল্যবোধের জীবনধারা মানুষের আত্মাকে বিশুদ্ধ করে তোলে। মৃত্যুর পরবর্তি মহাকালের শান্তির প্রত্যশায় ধর্মীয় জীবনই মানুষকে বিশ্বাসী করে তোলে। মানুষের জীবনকে জটিল ও কঠিন করা ধর্মের কাজ নয়, জীবনকে সহজ করে তোলাই ধর্মের মূল মন্ত্র।

অজ্ঞ মানুষের কাছে ধর্মীয় জ্ঞান অন্ধ মানুষের বিশ্বাসের সমতুল্য। জ্ঞানীর মাঝে ধর্মের মূল্যবোধ আকাশ সমতুল্য। ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুভবের ব্যাপ্তি অনন্ত অসীম। মানুষ কল্পনা শক্তি দিয়ে শ্রষ্টার শক্তির সাথে নিজের চিন্তা শক্তিকে একত্রিত করে যে কোন অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম হন। আত্মিক শক্তির চাইতেও আধ্যাত্মিক শক্তি মানুষের মনজগতকে বেশী শক্তি সঞ্চার করতে পারে। বিজ্ঞানের অনু পরমানুর শক্তির বিশ্লেষনে মানুষ মৌলের শক্তি-জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। একটি উদ্ভিদ কিভাবে সালোকসংশ্লেষন প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে তাহা জানার পরে একজন মানুষ শ্রষ্টার শ্রেষ্টত্ব সম্পর্কে বিস্ময় জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

ধর্মের গোঁড়ামিপূর্ন অন্ধত্ব ও অজ্ঞতার মাঝে শ্রষ্টার কোন দয়া থাকে না। যৌক্তিক জ্ঞান ও বিজ্ঞানের বিশ্লেষন করলে শ্রষ্টার অপরিসীম শক্তি সম্পর্কে মানুষ আরো নিখুত ভাবে জানাতে পারে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকশিত আলো শ্রষ্টার প্রতি মানুষের বিশ্বাসের দৃঢ়তা আরো বেশী বাড়িয়ে দেয়। পৃথিবীতে আজ ধর্মে ধর্মে কোন যুদ্ধ নেই, জবরদস্তীও নেই। ব্যাক্তি জীবন ও পারিবারীক জীবন ধর্মের অনুশাষন প্রয়োজন ও কল্যনকর। ধর্মীয় জীবন আত্মার প্রশান্তি, ইহকাল ও পরকালের জীবন দর্শন। প্রত্যেকের কাছে তার নীজ ধর্ম তেমনই হওয়া উচিত।

এড মিজানুর রহমান
জজ কোর্ট, লক্ষীপুর।
01712530834

Print Friendly, PDF & Email




Close(X)
Close(X)


Close(X)
Close(X)

সংবাদ খুজুন

ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিনঃ

 
সেরা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম – SeraNews24.Com ☑️
পাবলিক গোষ্ঠী · 23,009 জন সদস্য

গোষ্ঠীতে যোগ দিন

প্রতিমুহূর্তের সংবাদ পেতে Like দিন অফিশিয়াল পেইজ এ।
নিউজ পোর্টাল: www.SeraNews24.Com
ফেসবুক গ্রুপ: http://bit.do/SN24FBGroup
ইউটিউব চ্যানেল: http://bi…
 

আজকের নামাজের সময়সূচি

ঢাকা, বাংলাদেশ।
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৪:৩০
সূর্যোদয়ভোর ৫:৪৫
যোহরদুপুর ১১:৫৩
আছরবিকাল ৪:১৭
মাগরিবসন্ধ্যা ৬:০০
এশা রাত ৭:১৬







 About Us     Contact     Privacy & Policy     DMCA     Sitemap

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | সেরা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম ২০১৮

Design & Developed By Digital Computer Center
error: Content is protected !!