">
কল্পনার মহাকাশ : এডভোকেট মিজানুর রহমান | | সেরা নিউজ ২৪ ডটকম | SeraNews24.Com | সর্বদা সত্যের সন্ধানে
সংবাদ শিরোনাম :
মাওনা প্রিমিয়ার লীগে ভিক্টরিয়া একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভাইকিংস একাদশ ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আধুনিক মঞ্চ নাটক প্রদর্শনী তিতুমীরে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ চকবাজার অগ্নিকান্ডে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালিত কবি সাজেদুল হকের ” মাছরাঙার শহরে, উড়ে যাওয়া পাখির দূরে যাওয়া শূন্যতা “ শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আলহাজ্ব আব্দুল জলিলকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে চায় শ্রীপুরবাসী কুষ্টিয়া তে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ কুমারখালী তে বই উৎসব ২০১৯ অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া -৪ আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জ বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী। নৌকায় ভোট চাইলেন তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ নেতা হাসানুর রহমান শাওন
কল্পনার মহাকাশ : এডভোকেট মিজানুর রহমান

কল্পনার মহাকাশ : এডভোকেট মিজানুর রহমান

এডভোকেট মিজানুর রহমানঃ
মানুষ কত বড়? সহজ উত্তর হলো তার স্বপ্নের সমান। টাকা দিয়ে মানুষের ধনী-দরীদ্রতা নির্নয় করা সহজ, তেমনি বর্ন দিয়ে সাদা-কালো,দৈর্ঘ দিয়ে খর্বাকৃতি,উপাসনা দিয়ে ধর্ম, জেন্ডার দিয়ে নারী-পুরুষ,বয়স দিয়ে বার্ধক্য, শক্তি দিয়ে দুর্বলতা, বাকশব্দ দিয়ে জাতীয়তা নিরুপন করা হয়। কিন্তুু একজন মানুষ কত বড় মাপের তাহা নির্নয় করা সহজ নয়। মানুষ মাপার মাপকাঠি সুক্ষাতিসুক্ষ জ্ঞানের অনূভূতির সূচকের উপর নির্ভরশীল। মানুষ মাপার যন্ত্র না থাকলেও তাহা অনাবিস্কৃত নয়। মানুষ তার নিজস্ব জ্ঞান শক্তি দিয়ে পৃথিবীর বিখ্যাত মানুষ, সৎ মানুষ,মহাপ্রান, জগদ্বিখ্যাত মানুষের সাথে সাধারন মানুষের প্রার্থক্য ও বৈশিষ্ট নিরুপন করতে সক্ষম হয়েছেন। মানুষের নিজের জ্ঞান শক্তি দিয়েই অন্য একজন মানুষের মহত্ব নির্নয় করতে পারেন।

মানুষ তার নিজের ভিতরে মানুষত্ব আর পশুত্ব দুই শক্তি ধারন করে। পশুত্ব সকল প্রানীকূলের একটি সহজাত বৈশিষ্ট। মানুষের ভিতরের পশুত্বকে দমন করে রাখার জন্য জ্ঞান শক্তির প্রয়োজন। একমাত্র জ্ঞানই পশুত্বের শত্রু।মানুষের ভিতরে শুভ শক্তির নাম থিসিস (Thesis) বা পজেটিভ ভাব। শয়তানের শক্তির নাম এন্টি থিসিস (Antithesis) এই দুই শক্তিকে একত্রে ধারনকৃত শক্তির নাম সিনথিসিস synthesis। মানুষ হলো (synthesis)। মানুষই দুই শক্তির প্রতিনীধিত্ব করে। মানুষ শ্রেষ্ট নয়, প্রানী জগতের সৃষ্টির সেরা মাত্র। সৃষ্টির সেরা বলেই সৃষ্ট্র জগতের সকল বিষয়ে জ্ঞান আহরন করার কাল্পনিক শক্তি মানুষের আছে। মানুষ কল্পনা শক্তি অর্জন করার কারনে নিজকে শ্রোষ্টত্বের অাসনে স্থান করে নিয়েছেন। কল্পনা শক্তি, চিন্তা শক্তি, প্রশ্ন করার ক্ষমতা অর্জন মানুষের শ্রেষ্টত্বের গুরুত্বপূর্ন সূচক।

কল্পনার বিকশিত ভাব থেকে মানুষের চিন্তার উন্মেষ ঘটেছে এবং নুতন প্রশ্ন থেকে নুতন নুতন উত্তর উন্মোচিত হয়েছে। মানুষ তার উদ্ভাবনী শক্তি থেকেই কঠিন এবং জটিল অনাবিস্কৃত আবিস্কার, অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম হয়েছেন। অনাদী অনন্তকালের কল্পতত্বকে বিজ্ঞান নির্ভর যুক্তির মাধ্যমে জ্ঞান সীমার নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়েছেন। মানুষের চিন্তাশক্তির বিকশিত ধারনা প্রকাশের উন্মুক্ত কোন স্থান (space) না থাকলে সেই জনপদ পরনির্ভরশীল পশ্চাদপদ কূপমন্ডুকতায় আবৃত থাকে। আফ্রিকার জঙ্গলের মানুষ বর্তমানেও আনসিভিলাইজ (uncivilized)। অনগ্রসর বর্বর সভ্যতাবিহীন মানুষের সাথে পশুপ্রানীর তেমন কোন প্রার্থক্য থাকে না।

বিকশিত সমাজবিনির্মানের প্রবাহ সামনে এগুতে থাকে। অতিমানবিক শক্তি জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকে সমাজসভ্যতাকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়। পশ্চাদপদ ধারনা সেই প্রবাহকে টেনে ধরে। সমনে এবং পিছনে টানার স্থির শক্তির নাম ভারসাম্য (balance)। পৃথিবীতে ভারসাম্য এক গুরুত্বপূর্ন নিয়ামক। মধ্যাকর্ষণ শক্তি কোন বস্তুুকে তার নিজের দিকে টেনে ধরে। মহাশূণ্যের প্রতিটি গ্রহ নক্ষত্র পরস্পরকে টেনে ধরে একটি ব্যালেন্স (balance) তৈরী করেই তার ক্রিয়াশীল। মানুষ কল্পনা শক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞানের নুতন নুতন মাত্রা সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। অজানা বিষয়কে প্রশ্নবানে আঘাত করা ব্যাতিত সত্যানুসন্ধানে কোন বিকল্প পথ নেই।

মানুষের পরিধেয় বস্র, খাদ্য, ঔষধ, বাসস্থান, বিদ্যুত, জ্বালানী,পানি, ফোন, টেলেক্স, ফ্যাক্স, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, দৈনন্দিন ব্যাবহার সামগ্রী, আসবাবপত্র সহ উন্নত জীবনের সকল উপকরন মানুষের প্রয়োজনে মানুষ
আবিস্কার করেছেন। মানুষের প্রয়োজনীয় উপাদানের ব্যবহার বিষয়ে ধর্মীয় কোন বিরোধ নেই।বিজ্ঞানের আবিস্কার ও ব্যাবহার বিষয়ে মানুষের কোন মতবিরোধ নেই। সকল ধর্মের মানুষই নিজ জীবনে ব্যবহৃত বিজ্ঞানের কোন আবিস্কারকে প্রত্যাখান করেন না। নিজ স্বার্থে সকলেই এক্ষেত্রে একমত থাকে। কোন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিজ্ঞান ব্যবহারের মাঝে কোন বিরোধ নেই। প্রথমত বিরোধ থাকলেও পরবর্তিতে নিজ প্রয়োজনে মানানসই করে নিয়েছে। টেলিভিশন ব্যাবহারে প্রথমত অসন্মতি থাকলেও পরবর্তিতে সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান টেলিভিশনের মাধ্যমেই প্রচার করা হয়।

মানুষের অপ্রাপ্তির আকাঙ্খাই আবিস্কারের সূতিকাগার। ক্যান্সার,এজমা,ডায়ভেটিক,ব্লাডপ্রেসার এইডস রোগের ঔষধ অনাবিস্কৃত থাকার কারনে মানুষ রোগের কারন ও প্রতিকার করার জন্য অবিরাম প্রচেষ্টায় লিপ্ত। প্রয়োজনের এবং প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা থাকলেও মানুষের কল্পনা শক্তির কোন সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে না। মানুষের উর্বর মস্তিস্কের বিতরন ক্ষেত্রকে কোন মতবাদ দিয়ে বন্ধ করা সঠিক নয়। পরীক্ষামূলক ভাবে মানুষের তৈরী সূত্র বা মতবাদ পরিবর্তন হয়েছে পরিবর্ধন হয়েছে এমনকি বাতিলও হয়েছে। মানুষের তাদের পরস্পরের সাথে আবিস্কার আদান প্রদান করে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ইন্টারনেট,ফেইসবুক,টেলেক্স,ফ্যাক্স, রেডিও, টি ভি , মানব দেহের রোগ নির্নয় ও প্রতিকারে নিত্যনুতন আবিস্কার কেউ কুক্ষিগত করে রাখে না। মানুষের কল্যানে তাহা উন্মুক্ত হয়ে যায়।

মানুষ কাল্পনিক ক্ষমতাবলে ভ্রম্মান্ডের অনাবিস্কৃত গ্ল্যাস্কির নুতন আবিস্কার করার চেষ্টা করেন। স্যাটেলাইট বিজ্ঞান,মহাকাশ ধারনা মানুষের কল্পানা শক্তির একটি প্রায়গিক বিজয়। সৃষ্টি জগতের সকল সৃষ্টির মহত্ব অনুধাবন করাই সৃষ্টির সেরা মানুষের মহত্ব। গোড়ামিপূর্ন অনগ্রর কূপমন্ডুকতায় আবৃত জনগোষ্টি সভ্যতার ধারক বাহক হতে পারে না। জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বেশী দিন স্রোতের ধারা আটকানো যায় না। অনেক মহাজ্ঞানীকে শূলে চড়ায়ে মৃত্যুদন্ড কার্য্যকর করানো হয়েছে, অনেকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে সত্যকে প্রতিষ্ঠাত করে মৃত্যু বরন করেছেন। দেরীতে হলেও সত্যটাই প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্ধকার যুক্তিকে বিশ্বাসের নাম জ্ঞান-বিজ্ঞান নয়। আলোকিত যুক্তিই মুক্তির পথ উন্মোচন করতে পারে। ভার্সুয়াল জগতকে বিজ্ঞানের আলোকে আলোকিত করতে হবে। জীবনের প্রতিটি স্পন্ধনকে সুক্ষাতিসুক্ষ বিশ্লেষনের মাধ্যমে অর্থবহ করতে হবে।

মানুষের বিশ্বাসের সীমাবদ্ধকে অতিক্রম করার জন্য কল্পনাই একমাত্র শক্তিশালী মাধ্যম। অনেক সময় কল্পনা বিশ্বাসের প্রতিপক্ষও বটে। মানুষের বাহ্যিক সীবদ্ধতা থেকে কল্পনা মুক্তির উপায় খুজে দেয়। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিচরন ক্ষেত্র মানুষ কল্পনার মাধ্যমেই আবিস্কার করেছেন। কল্পনা ও স্বপ্নের সাথে মানুষ বুঝাপড়া করতে পারে। কল্পনার অবস্থান থেকে মানুষ সরে পড়তে পারে এবং অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। কল্পনা জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি। স্বপ্ন মানুষকে বিজয়ী করে তোলে। সুক্ষাতিসুক্ষ অনুজীব থেকে মহাকাশ পর্যন্ত্য মানুষ চিন্তাশক্তির মাধ্যমেই বিচরন করতে সক্ষম হয়েছেন। পদার্থ বিজ্ঞান, জ্যামিতি,গনিত, রসায়ন, জীববিজ্ঞান সহ সংশ্লিষ্ট আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের জ্ঞানকে অতীতের অন্ধকার জীবন থেকে আলোর দিকে ধাবিত করতে সাহার্য্য করেছে। আবিস্কৃত এবং অনাবিস্কৃিত সকল শক্তির মাঝে মানুষ শ্রষ্টার অন্তর্নিহীত ক্ষমতাকে আরো বেশী অনুধাবন করতে পারে। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার মতবাদ ও সীমাবদ্ধ চিন্তার বেষ্টনী থেকে ব্যাক্তি ও রাষ্টচিন্তাকে বেরিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। মানুষের কল্পনা শক্তির উর্বর বিচরন ক্ষেত্র উন্মুক্ত থাকতে হবে।১৯৫৭ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত্য একশত ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ।মহাশুন্যের রাজকুমার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ( ১) আমাদের কল্পনার মহাকাশ।

এড. মিজানুর রহমান
জজ কোর্ট, লক্ষীপুর।
01712530834
১২.০৫.২০১৮

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত ‍লিখুন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন...

সংবাদ খুজুন

ফেসবুক গ্রুপ অনুসরন করুনঃ

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ – World Cup Football 2018 – SeraNews24.com
Facebook Group · 35,396 members
 

Join Group

 

প্রতিমুহূর্তের সংবাদ পেতে ভিজিট করুন “সেরা নিউজ ২৪ ডটকম”
www.SeraNews24.com

 About Us     Contact     Privacy & Policy     DMCA     Sitemap

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত সেরা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম -২০১৮